মালদহে আমের ফলন ভালো হলেও বিক্রি করা নিয়ে আশঙ্কা
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: আমের ভালো ফলন মালদহ জেলায়। আম বিক্রি করা নিয়েই ব্যবসায়ী ও আম বিক্রেতাদের বিক্রি করা নিয়ে আশঙ্কা বেড়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর,লকডাউন পরিস্থিতিতে বাগান থেকে আম ভেঙে ভিনরাজ্য বা অন্য জেলায় পাঠানো সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা এই অবস্থায় জেরবার পরিস্থিতিতে পড়েছেন। এই জেলার বিপুল পরিমান আম বাজারজাত করা নিয়েই উদ্বেগ বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রের আরও খবর,রাজ্যে লকডাউন আবহে বন্ধ সমস্ত পরিবহন ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে বেড়ে গিয়েছে দুশ্চিন্তা। আমের চাষ মূলত আবহাওয়া নির্ভর। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলথাকায় মালদহে আমের ফলন অনেক ভাল। জেলা উদ্যানপালন দফতরের হিসেবে অনুযায়ী জানা গিয়েছে,এই জেলায় আমের চাষ হয়েছে ৩১ হাজার হেক্টর জমিতে। মালদহে আমের ফলন হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ মেট্রিক টন।
উল্লেখ করা যায়, গতবছর জেলায় আমের ফলন ছিল ২ লক্ষ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। যা গতবারের তুলনায় ১ লক্ষ মেট্রিক টন বেশি। মালদহ জেলায় আম পাড়া ও বাজারজাত করার কাজ শুরু হয়ে থাকে মে মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ। তবে এ বছর গাছ থেকে আম পাড়ার কাজ সেভাবে শুরু করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে,মালদহ জেলায় যে সব প্রজাতির আম পাওয়া যায় তারমধ্যে গোপালভোগ আম সবচেয়ে প্রথম বাজারে আসে। অল্প সংখ্যক বাগানে গোপালভোগ আম পাড়ার কাজ শুরু হলেও বেশিরভাগ আমচাষি বাজার না পাওয়ায় আম ভাঙার কাজ শুরু করতে পারেননি। কার্যত লকডাউন পরিস্থিতি থাকায় আম ভেঙে ভিনরাজ্য বা অন্য জেলায় পাঠানোর ব্যবস্থাও করতে পারছেন না। এর ফলে আম চাষী ও আম ব্যবসায়ীরা সঙ্কটে পড়েছেন।
আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,সব বাগানের গাছেই ভর্তি আম রয়েছে। এর ওপর ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব পড়লে আম ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। মালদহের আমের একসময় বাজার ছিল প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশেও। বাংলাদেশে আমদানি শুল্ক অতিমাত্রায় বৃদ্ধি হওয়ায় ওই দেশে আম রপ্তানি কার্যত বন্ধই রয়েছে।
এছাড়া মালদহের আমের একটা বড় অংশ অসম, ত্রিপুরা ও বিহার রাজ্যেও যায়। লকডাউন জনিত সমস্যা থাকায় এ বছর আম পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। মালদহে এবার ফলন ভাল হলেও লাভ হওয়ার আশা প্রায় দেখছেন না আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা।

